আমাদের নিজের শরীর কিংবা এই শরীরটি কখন কিভাবে বেঁচে থাকবে তার ওপর আমাদের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ থাকবার মত স্বাধীনতার সাথে আরঅন্য কোন স্বাধীনতার তুলনা হয় না!
shumu
শিশু যৌন নির্যাতন এবং ধর্ষণের বেঁচে থাকা ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে
আমার নাম সুমু।আমার জন্ম একটি বাংলাদেশী পরিবারে এমন একটি সাংস্কৃতিক পটভূমিতে, যেখানে একজন নারী বা শিশুর তার নিজেরশরীরের ওপর নিজের কর্তৃত্ব কিংবা অধিকারের বিষয়টিকে একেবারেই স্বীকার করা হয় না, তাকে একজন স্বতন্ত্র ও স্বাধীন মানুষ হিসেবে স্বীকারকরা তো দূরের কথা । আমার লড়াইটা শুরু হয়েছিল মাত্র ৫ বছর বয়সে, যখন বাড়ির যে বড়দের দায়িত্ব আমাকে রক্ষা করা, সেই তাদেরইএকজন আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আর ভয়ংকরভাবে আমার শরীরটা আর মনটাকে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়ে চিরকালের মত আমার জীবন থেকেশৈশবের সারল্যটুকু নষ্ট করে দেয়। শুধু তাই নয়, এর পর আরো ৬ বছর ধরে ক্রমাগতভাবে চলতে থাকে সেই যৌন সহিংসতা।
শুরুতেই একথা বলে নেয়া ভালো যে আমার জন্ম হয়েছিলো অত্যন্ত স্বচ্ছল, শিক্ষিত, এবং তথাকথিত “প্রগতিশীল” একটি বাংলাদেশীপরিবারে। যখন আমার জন্ম,সেই আশির দশকের শুরুতে বাংলাদেশ তখনও আজকের এই মৌলবাদী ইসলাম আর পিছিয়ে পড়া চিন্তাভাবনারকবলে পড়ে নারীর মৌলিক অধিকারগুলোর শ্বাসরোধ করতে শুরু করেনি, সেটা আরো অনেক পরের ঘটনা। তবুও, সেই আধুনিক, সুবিধেভোগীএকটি পরিবারের একটি পাঁচ বছরের শিশুকে সেদিন এই নৃশংসতার শিকার হতে হয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশী শিশু, নারী কিংবা তৃতীয়লিঙ্গের একজন নাগরিকের পক্ষে এমন যৌন সহিংসতার শিকার হওয়াটা এতই স্বাভাবিক যে সমাজের ১% সুবিধেভোগী শ্রেণীর সন্তান হয়েজন্মালেও এ থেকে তার মুক্তি নেই।
©2024 Jadwiga Brontē & Shumu Haque
লেটস টক অ্যাবাউট রেপ® একটি সহযোগী প্রকল্প যা একটি থেরাপিউটিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়, যেখানে বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা তাদের নিজস্ব এজেন্ডা নির্ধারণ করেন এবং সুস্থির হওয়ার জন্য এবং তাদের গল্প পুনরুদ্ধারের একটি শক্তিশালী সরঞ্জাম হিসেবে স্ব-চিত্র তুলতে শাটার রিলিজ কেবল ব্যবহার করেন।
সুমু, টেক্সাস, ইউএসএ ২০২৪
শৈশবের সেই নোংরা অভিজ্ঞতা অনেকভাবে আমার জীবনে ছাপ ফেলে রেখে গেছে।
shumu
আরেকটু বড় হবার পর, আমার বয়স যখন ১১, তখন নিজের চোখে এই ঘটনাটি ঘটতে দেখার পরও আমার মা এই ঘটনার জন্যে আমাকেইদায়ী করতে থাকলেন, অর্থাৎ আমিই নাকি আমার চেয়ে বয়সে প্রায় ২০ বছরের বড় সেই ব্যক্তিটিকে উস্কেছি আমাকে আক্রমণ করতে। শুধু তাইনয়, এর পর থেকে যে কোন সম্পর্কের এবং যে কোন বয়সের যে কোন পুরুষের সাথে কথা বলতে দেখলেই আমাকে তিনি সন্দেহের চোখে দেখতেনআর মারধর করতেন। বলতেন আমার ওঠা-বসা কিংবা চালচলন, কোনটাই ভালো নয়।
তবে একথা স্বীকার করতেই হয় যে, এমনভাবে আমাকে এই ঘটনার জন্যে দায়ী করার জন্যে আমার মাকে খুব বেশি দোষ দেয়া চলে না। তিনিআমার সাথে ঠিক সেই ব্যবহারটাই করছেন যা তাঁর মা, অর্থাৎ আমার নানী আমার মায়ের ছোটবেলায় তাঁর সাথে করে এসেছেন, আর আরওপরে তাঁর স্বামী, অর্থাৎ আমার বাবা তাঁর সাথে করে এসেছেন। পারিবারিক সহিংসতা জিনিসটিও পারিবারিক সম্পর্ক কিংবা উত্তরাধিকারের মতএভাবেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে প্রবাহিত হতে থাকে। এখন একথা বুঝতে পেরে মায়ের জন্যে আমার অনেক সহানুভূতি জন্মালেও, সেইছেলেবেলায় কিন্তু কিছুতেই মাথায় ঢুকতো না যে, যে মানুষটির আমাকে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসার কথা, যার আমাকে পৃথিবীর সববিপদ থেকে আগলে রাখার কথা, সেই মা-ই কেন আমার সাথে এমন ব্যবহার করতে পারেন! আর তাতেই এই নিষ্ঠুরতা আরও বেশি করেআমাকে আঘাত করতো।
আমার মা ক্রমাগত আমার সমালোচনা করে যেতেন। আমি কেমন ধরণের পোষাক পরছি (যদিও আমার বয়স তখন মাত্র ১১), কেমন ভঙ্গিতেবসছি, কেমন করে হাঁটছি, কেমন করে কথা বলছি, এর সবেতেই মা দেখতে পেতেন বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আমার উস্কানি। আমার বাড়ন্ত শরীরটাহয়ে ওঠে আমার সবচাইতে বড় শত্রু। মা সবসময় আমার ওড়নাটাকে টেনে টেনে আমার শরীরটাকে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে দেবার চেষ্টা করতেন।ক্রমাগত চেষ্টা করতেন যাতে আমি মাথা উঁচু করে সোজা হয়ে না হাঁটি। কুঁজো হয়ে হাঁটলে যদি তবু আমার বাড়ন্ত স্তনদুটোকে খানিকটা অস্বীকারকরা যায়! মাথা উঁচু করে টানটান হয়ে দৃপ্ত ভঙ্গিতে হেঁটে যাবার মতন পাপ আর জগতে নেই!
ক্রমাগত এই গালমন্দ আর সমালোচনা শুনতে থাকা কেবল আমার নিজের এই শরীরটার প্রতি প্রবল ঘেন্নাই এনে দেয়নি, আমার জীবনেরসবরকম সম্পর্কগুলো শুরু হবার আগেই সেগুলোকে রীতিমত বিষয়ে তুলেছে। আজীবন আমার আত্মবিশ্বাসের অভাব বরং আর দশজন যৌনসন্ত্রাসীর কাছেও আমাকে লক্ষবস্তু করে তোলে। যার ফলে আমি শুধু একবার দুবার নয়, বারবার আক্রান্ত হতে থাকি। তা সে সম্পর্কের ভেতরেকিংবা বাইরে যেখানেই হোক না কেন!
©2024 Jadwiga Brontē & Shumu Haque
লেটস টক অ্যাবাউট রেপ® একটি সহযোগী প্রকল্প যা একটি থেরাপিউটিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়, যেখানে বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা তাদের নিজস্ব এজেন্ডা নির্ধারণ করেন এবং সুস্থির হওয়ার জন্য এবং তাদের গল্প পুনরুদ্ধারের একটি শক্তিশালী সরঞ্জাম হিসেবে স্ব-চিত্র তুলতে শাটার রিলিজ কেবল ব্যবহার করেন।
সুমু, টেক্সাস, ইউএসএ ২০২৪
যতদিনে আমি আমার এই শরীরটাকে আর জীবনের যৌনতার দিকটিকে তার ভালোমন্দ সব মিলিয়ে যেমন দেখতে তেমন করেই সইয়ে নিতেপারলাম, আমার বয়স ততদিনে ৩৩ পেরিয়ে গেছে।এই এত বয়সে এসে প্রথম আমি নিজেকে অন্যের শিখিয়ে দেয়া রূপে নয়, বরং নিজেরস্বচ্ছতার দৃষ্টিতে দেখতে পেলাম, এই প্রথম শুরু হলো কুঁজো হয়ে গ্লানি নিয়ে নয়, বরং মাথা উঁচু করে পৃথিবীর সবার চোখে চোখ রেখে কথা বলাআর সহজ হয়ে সবার সাথে মিশতে থাকা I বহু বছর অজস্র থেরাপি, কাউন্সেলিং আর অনেকগুলো ভাঙা সম্পর্ক পার হয়ে তবেই আমিআজকের আমি হয়ে উঠেছি। এখনও আমাকে প্রতিনিয়ত নিজের সাথে রীতিমত যুদ্ধ করতে হয়, যাতে করে আমার ছোটবেলায় শেখানো সেইঘৃণিত অস্তিত্বের ফাঁদে আবার না পা দিয়ে বসি!
৩৪ এ পা দিয়ে আমি প্রথম একটি নারীবাদী পোর্টালে আমার ছেলেবেলার সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা লিখি। বলাই বাহুল্য সেই লেখাটিপ্রকাশিত হবার সাথে সাথেই আমার মা এবং বাংলাদেশী সমাজ, দুই-ই আমাকে ভয়ংকর সমালোচনায় ছিন্নভিন্ন করে দিতে থাকলো, কেন আমিপ্রকাশ্যে এমন লজ্জাজনক একটি ঘটনার কথা জানালাম। এক ছাদের নিচে থেকেও আমার মা আমার সাথে একটিও কথা বললেন না মাসেরপর মাস! ৩৭ বছর বয়সে এসে যেদিন আমি প্রথমবার নিজের একটি বাসায় নিজের মত করে থাকতে শুরু করলাম, সেই তখন আমার মায়েরসাথে আমার সম্পর্ক খানিকটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলো মাত্র।
শৈশবের সেই নোংরা অভিজ্ঞতা অনেকভাবে আমার জীবনে ছাপ ফেলে রেখে গেছে। ২৩ বছর বয়সে এসে জানতে পারলাম, আমার শরীরে বাসাবেঁধেছে এন্ডোমেট্রিওসিস নাম ভয়াবহ একটি রোগ। এই রোগের শুরুটা ইউটেরাস থেকে হলেও ক্রমান্বয়ে তা ছড়িয়ে আমার পেটের ভেতরেরসবগুলো অঙ্গপ্রত্যঙ্গে। ফলাফল মাত্রাতিরিক্ত রক্তস্রাব, অসহনীয় ব্যাথা। এই অসুখ আমার পড়ালেখা এমনকি কেরিয়ারের ক্ষেত্রেও ভীষণনেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে হিস্টেরেক্টমি করে, এই রোগটিকে, আর তার সাথে সাথেই মা হবার সম্ভাবনাটিকেও বিদায়জানালাম। আমার বয়স যখন ৩১, তখন অত্যন্ত বিচক্ষণ একজন চিকিৎসক আমাকে প্রথম জানান শৈশবের যৌন সহিংসতার শিকার হওয়ারসাথে এন্ডোমেট্রিওসিসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা।যদিও এ বিষয়ে এখনও অনেক গবেষণা করা বাকি, আমার মনে এখন আর বিন্দুমাত্র সন্দেহনেই, যে এই অসুখটি আর আমার শৈশবের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, এরা একে অন্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
নারীবাদী আন্দোলনের সাথে যুক্ত হওয়ার সুবাদে আমার পরিচয় অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত মানবিক এবং সংবেদনশীল নারীর সাথে যারা আমাকে এই প্রকল্পটির জন্যে নির্বাচিত করেছেন। যাতে করেযৌন সহিংসতার শিকার হয়ে বেঁচে থাকা বাংলাদেশী নারীদের একজন প্রতিনিধি হিসেবে আমি এখানে অংশ নিতে পারি। বলে রাখা ভালো, বাংলাদেশী এবং বাংলাদেশী অভিবাসী নারীদের প্রায় প্রত্যেকেই প্রতিনিয়ত আমার তুলনায় আরো হাজারগুণ বেশি ভয়ংকর সব নৃশংসতার শিকার হয়ে চলেছেন। একথা স্বীকার করতেই হবে, তাঁদের তুলনায় একজন শিক্ষিত, স্বাধীন এবং আত্মনির্ভরশীল অভিবাসী নারী হিসেবে আমি অনেকটাই সহজ এবং সুবিধেভোগী একটি জীবন যাপন করছি।
লজ্জা তার স্ব-চিত্র তোলার সময়। পেছনের দৃশ্য। সুমু, টেক্সাস, ইউএসএ ©২০২৪ যাদ্বীগা ব্রনতে
লজ্জা তার স্ব-চিত্র তোলার সময়। পেছনের দৃশ্য। সুমু, টেক্সাস, ইউএসএ ©২০২৪ যাদ্বীগা ব্রনতে
প্রথম প্রথম খানিকটা ভয় ভয় করলেও যতই এই প্র কল্পটির বিভিন্ন দিক জানতে এবং বুঝতে পারলাম, মনে হলো, এটি আমার জন্যে আরোঅগণিত যৌন সহিংসতার শিকার নির্বাক বাংলাদেশী নারীদের কণ্ঠে ভাষা দেবার একটি সুযোগ হতে পারে, যাতে করে তাঁরা স্বকণ্ঠে যে যন্ত্রণারকথাগুলো বলে যেতে পারেননি, আমি সেই অব্যক্ত যন্ত্রণাগুলোকে তাদের হয়ে প্রকাশ করতে পারবো।
১৯৭১ সালে অত্যন্ত রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম হয়।এ যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ দেন, লক্ষ লক্ষ নারী পাকিস্তানীহানাদার বাহিনীর হাতে গণধর্ষণের শিকার হন। শুধুমাত্র নথিবদ্ধ হিসেবে অনুযায়ীই দেখা যায়, দুই থেকে চার লক্ষ বাংলাদেশী নারী এসময়ধর্ষণ এবং যৌন সহিংসতার শিকার হন। এই ভয়াবহ যৌন সহিংসতা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী আর তাদের বাংলাদেশী দোসরদের জন্যে ছিলযুদ্ধের একটি অলিখিত কৌশলমাত্র। এইসব ধর্ষণের ফলে বাংলাদেশী নারীরা পাকিস্তানী সৈন্যদের দ্বারা সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়লে একদিকে তাযেমন তাঁদের জন্যে অত্যন্ত লজ্জাজনক একটি বিষয় হয়ে দাঁড়াবে, অন্যদিকে তেমনি তাঁদের গর্ভজাত সেই অবৈধ শিশুরা কোন অবস্থাতেইতাদের পিতৃপক্ষের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে না, এমনটাই ভাবা হতো তখন। বলা বাহুল্য, এই নথিবদ্ধ যৌন সহিংসতার ঘটনাগুলো ছিলবাস্তবে ঘটে যাওয়া যৌন সহিংসতার ঘটনাগুলোর একটি নামমাত্র অংশ মাত্র।
সদ্য স্বাধীনতা পাওয়া একটি জাতি এই লক্ষ লক্ষ ধর্ষিতা নারীকে “বীরাঙ্গনা” উপাধি দিয়ে তারপর তাঁদের অস্তিত্বকেই বেমালুম ভুলে গেলো।এইনারীরা উচ্ছিষ্ট, অপবিত্র। তাই লোকলজ্জার ভয়ে অনেক পরিবারই তাদের বীরাঙ্গনা মা-বোন কিংবা বধুদেরকে পরিত্যাগ করলো।এমনকিঅনেক পরিবার এই বীরাঙ্গনাদের বদৌলতে পাওয়া ভাতার টাকাগুলো নিয়মিত সংগ্রহ করলেও, যাদের কারণে এই সুবিধে তারা ভোগ করছেন, তাদেরকে ত্যাগ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। স্বাধীন বাংলাদেশে তাঁদের কোন স্থান হয়নি।
এটা কি খুব আশ্চর্যের বিষয় যে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ কিংবা দেশের বাইরে বাংলাদেশী অভিবাসীদের ভেতর যৌন সহিংসতার শিকার হওয়ানারীদের প্রতি এমন অসম্মানজনক একটি মনোভাব দেখা যায়?
যেমনটা ১৯৭১ পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী আর তাদের সহযোগী বাঙালিদের করা যৌন সহিংসতার বিষয়টিকে নির্বিঘ্নে ভুলেগিয়ে তাদেরকে নির্বিবাদে ক্ষমা করে দিয়ে আমরা বীরাঙ্গনাদের প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিষয়টিকে অগ্রাহ্য করে গেছি, আজও বাংলাদেশী সমাজেরভেতর সেই একইভাবে নারী, শিশু এবং তৃতীয় লিঙ্গের যে কোন ব্যক্তির ওপর হওয়া যৌন সহিংসতার বিষয়টিকে অগ্রাহ্য করার, এমনকি গোপনকরে যাবার একটি প্রবণতা আমরা দেখতে পাই। আর সেই একই কারণে এর শিকার হওয়া ব্যক্তিরাও সংকোচে মুখ ফুটে নিজেদের অভিজ্ঞতারকথা বলতে দ্বিধা করেন।
আমি যখন এই ছবিগুলো তুলছিলাম, এই প্রথমবারের মত মনে হলো, আমার শরীর এবং স্বত্তার ওপর আমার সহজাত যে অধিকার থেকে এই সমাজ এবং আমার পরিবার এতদিন আমাকে বঞ্চিত করে রেখেছিলো, আমি একটু একটু করে সেই অধিকারটা আবার ছিনিয়ে নিচ্ছিলাম।
shumu
যেমনটা ১৯৭১ পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী আর তাদের সহযোগী বাঙালিদের করা যৌন সহিংসতার বিষয়টিকে নির্বিঘ্নে ভুলেগিয়ে তাদেরকে নির্বিবাদে ক্ষমা করে দিয়ে আমরা বীরাঙ্গনাদের প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিষয়টিকে অগ্রাহ্য করে গেছি, আজও বাংলাদেশী সমাজেরভেতর সেই একইভাবে নারী, শিশু এবং তৃতীয় লিঙ্গের যে কোন ব্যক্তির ওপর হওয়া যৌন সহিংসতার বিষয়টিকে অগ্রাহ্য করার, এমনকি গোপনকরে যাবার একটি প্রবণতা আমরা দেখতে পাই। আর সেই একই কারণে এর শিকার হওয়া ব্যক্তিরাও সংকোচে মুখ ফুটে নিজেদের অভিজ্ঞতারকথা বলতে দ্বিধা করেন।
আমি যখন এই ছবিগুলো তুলছিলাম, এই প্রথমবারের মত মনে হলো, আমার শরীর এবং স্বত্তার ওপর আমার সহজাত যে অধিকার থেকে এইসমাজ এবং আমার পরিবার এতদিন আমাকে বঞ্চিত করে রেখেছিলো, আমি একটু একটু করে সেই অধিকারটা আবার ছিনিয়ে নিচ্ছিলাম।
আপনারা যখন এই ছবিগুলো দেখবেন, যখন আপনারা ক্যামেরার চোখ দিয়ে আমার চোখে চোখ রাখবেন, যৌন সহিংসতার শিকার হওয়া এমনআরো অগণিত বাংলাদেশী নারীর যন্ত্রণা আপনারা উপলব্ধি করতে পারবেন। আমি প্রত্যাশা করি, আমার এই ছবিগুলোর ভেতর দিয়ে তাঁদেরঅব্যক্ত যন্ত্রণাগুলো বাঙময় হয়ে উঠবে।
© 2024 Let’s Talk About Rape® All rights reserved. Photographs © of their respective owners. The material on this site may not be reproduced, distributed, transmitted, cached or otherwise used, except with the prior written permission of Let’s Talk About Rape®